Skip to content
Spread the love

নিঃশব্দ আততায়ী

মৌমিতা পাল

হে সুউচ্চ হিমালয়ের তুষার 
তুমি তো জানতে, পৃথিবীর সমস্ত বরফের কাছে আমি এক উষ্ণ আগুন, 
আমিই একমাত্র 
আগুন –
যে তোমার ঠান্ডা হিমালয়কে আস্তে আস্তে গলিত নদীতে পরিণত করতো, আওয়াজ দিতো সুখময় শান্তির নিঃশ্বাসের মতো।
আমার প্রশ্ন –
কেন তুমি জোয়ারে ভাসাতে এলে অবলা কাঠের ক্ষুদ্র অংশকে?
আমি তো জানতাম তোমারও জোয়ারে ভাটা পড়বে, 
সময়ের স্রোত উল্টো পথে টেনে তোমাকে নিয়ে যাবে বহুদূর। 
উপকূলে বেড়ে ওঠা ঝাউ বনের সৌন্দর্য হারাবে
কর্দমাক্ততায়।
জলে ভাসামান বোতলের মতো অপরিত্যাক্ত অবস্থায় পাওয়া যাবে আমায়। 
চলমান থাকবে যাযাবর রোহিঙ্গা জীবন।
 
কিন্তু তুমি তো জানতে, 
আমি তো হতে চেয়েছিলাম, 
তোমার মনের সবুজ ঘাসে উড়া প্রাণবন্ত ফড়িং অথবা  রঙিন বাহারি প্রজাপতি। 
তোমার কপালের উষ্ণ চুমুর মতো শান্ত, স্হির।
 
না,  আধো রাতের অস্ফুট নিঃশ্বাস না_
আমি হতে চেয়েছি তোমার অস্ফুট নিঃশ্বাস তৈরির কারখানা, 
যেখানে তুমি  নির্দিধায় উৎপাদিত করবে তোমার বংশমূল, 
আমি হয়ে থাকবো সেই বংশমূলের আদি গোড়া।
সব কিছু জেনে শুনেই আমি হতে চেয়েছি তোমার হৃদপিন্ডে হালের বলদ।
 
এসব জেনেও তুমি চাইলে নিঃশব্দ এক মহামারী। 
আক্রান্ত করলে এক মহাজন্ম। 
এ মহাজন্মে আমি জেনেছি, জীবনে স্হায়ী দুঃখ কেমন হয়, নিজের তবুও অধরা, অমূল্য জিনিস স্পর্শের অক্ষেপ কেমন হয়। মাঝরাতে হৃদপিণ্ডের শব্দে ব্যাথার তরঙ্গ কেমন ওঠানামা করে।
 
কেমন করে বলে “তুই তো আমারি “। 
 
আমরা না হয় ব্যাথার নামে কবুল পড়ে কাটিয়ে দিলাম প্রবাসীর একজীবন।
 
এবার শুধু না হয় অকথিত বাক্যের সমাহার তুলে রাখলাম অপ্রকাশিত গ্রন্থমালায়,কিন্তু এই অসীম একমহাজন্মের মহাযৌবনের মহামারী তোলা রইল তোমার নামে।
 
হে হিমালয়ের সুউচ্চ তুষার,
তুমি না হয় আমার রুহুর নামে একটি খতম দিও। আমি না হয় অস্বীকার করলাম 
“তুমি এক নিঃশব্দ আততায়ী।”